১৭৬৫ সালে মোগল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি (রাজস্ব ও দেওয়ানি বিচার সংক্রান্ত অধিকার) লাভের পর একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। কোম্পানি কর্মকর্তাদের অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি রোধ এবং শাসনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রথমবার হস্তক্ষেপ করে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে। পরবর্তীতে ১৭৮৪ সালের পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট এবং ১৮১৩, ১৮৩৩ ও ১৮৫৩ সালের চার্টার আইনসমূহের মাধ্যমে ভারতে কেন্দ্রীয় প্রশাসন, মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস এবং পার্লামেন্টারি শাসন কাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হয়। WBCS (Prelims + Mains) পরীক্ষার 'Indian Polity' সিলেবাসের 'Historical Background of Indian Constitution' অধ্যায়ের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক।
১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় শাসনতন্ত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ ও বিধিবদ্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ভিত্তি: এটি ভারতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যবলীকে প্রথমবারের মতো সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করে।
গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল: বাংলার গভর্নর পদটিকে পদোন্নতি দিয়ে 'গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল' (Governor-General of Bengal) ঘোষণা করা হয় এবং তাঁকে সহায়তার জন্য ৪ সদস্যের একটি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (Executive Council) গঠন করা হয়। লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস (Lord Warren Hastings) ছিলেন প্রথম গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল।
প্রেসিডেন্সিগুলোর অধীনস্থকরণ: বোম্বাই (Bombay) এবং মাদ্রাজ (Madras) প্রেসিডেন্সির গভর্নরদের বাংলার গভর্নর-জেনারেলের অধীনে আনা হয়।
কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা (১৭৭৪): ১৭৭৪ সালে কলকাতায় ১ জন প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) এবং ৩ জন অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করা হয়। স্যার এলিজা ইম্পে (Sir Elijah Impey) ছিলেন এর প্রথম প্রধান বিচারপতি।
ব্যক্তিগত ব্যবসা ও ঘুষ নিষিদ্ধকরণ: কোম্পানির কর্মচারীদের নিজস্ব ব্যক্তিগত ব্যবসা (Private Trade) করা এবং স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে উপঢৌকন বা ঘুষ গ্রহণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
কোর্ট অব ডিরেক্টর্স-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ: কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ 'কোর্ট অব ডিরেক্টর্স' (Court of Directors)-কে ভারতের রাজস্ব, দেওয়ানি ও সামরিক সংক্রান্ত রিপোর্ট ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়।
১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করার উদ্দেশ্যে ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 'অ্যাক্ট অব সেটলমেন্ট' (Act of Settlement) পাস করে।
গভর্নর-জেনারেল এবং তাঁর কাউন্সিলকে তাঁদের সরকারি কর্মকাণ্ডের জন্য সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ার (Jurisdiction) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কোম্পানির কর্মচারীদেরও তাঁদের সরকারি কাজকর্মে সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ার থেকে মুক্ত রাখা হয়।
রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয় এবং রাজস্ব আদায়ের কাজকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারবিভাগীয় এক্তিয়ার থেকে বহির্ভূত করা হয়।
কলকাতায় অধিবাসীদের সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা হয় এবং হিন্দুদের হিন্দু আইন ও মুসলিমদের মোহামেডান আইন অনুযায়ী বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রাদেশিক আদালত থেকে আপিল সুপ্রিম কোর্টের পরিবর্তে গভর্নর-জেনারেল ইন কাউন্সিলের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিধান করা হয়।
১৭৭৩ সালের আইনের দুর্বলতা দূর করতে এবং ভারতে কোম্পানির শাসনের ওপর ব্রিটিশ সরকারের পূর্ণ আধিপত্য কায়েম করতে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট (William Pitt) এই আইনটি পার্লামেন্টে পেশ করেন।
দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (System of Double Government): আইনের মাধ্যমে কোম্পানির বাণিজ্যিক (Commercial) ও রাজনৈতিক (Political) দায়িত্ব স্পষ্টভাবে পৃথক করা হয়।
কোর্ট অব ডিরেক্টর্স (Court of Directors): কোম্পানির বাণিজ্যিক বিষয়াবলী পরিচালনার দায়িত্বে থাকে।
বোর্ড অব কন্ট্রোল (Board of Control): রাজনৈতিক, বেসামরিক, সামরিক শাসন ও রাজস্ব তদারকির জন্য ৬ সদস্যের একটি নতুন প্রশাসনিক সংস্থা 'বোর্ড অব কন্ট্রোল' গঠন করা হয়।
'ব্রিটিশ অধিকৃত ভারতীয় ভূখণ্ড': এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবার ভারতে কোম্পানির অধীনস্থ অঞ্চলসমূহকে "British Possessions in India" (ভারতে ব্রিটিশ অধিকৃত এলাকা) হিসেবে অভিহিত করা হয়।
পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ: ব্রিটিশ সরকারকে ভারতে কোম্পানির কাজকর্ম ও প্রশাসনের ওপর সর্বোচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
Act of 1786: ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে গভর্নর-জেনারেল হিসেবে নিয়োগের সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাতিল (Override) করার ক্ষমতা এবং একই সাথে 'কমান্ডার-ইন-চিফ' (Commander-in-Chief) পদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
Charter Act of 1793: কর্নওয়ালিসকে দেওয়া ওভাররাইডিং পাওয়ার পরবর্তী সকল গভর্নর-জেনারেল ও গভর্নরদের ক্ষেত্রে প্রসারিত করা হয় এবং কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার আরও ২০ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়। বোর্ড অব কন্ট্রোলের সদস্য ও কর্মচারীদের বেতন ভারতীয় রাজস্ব থেকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার বিলোপ: ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যাধিকারের একচেটিয়া আধিপত্য অবসান ঘটানো হয় এবং সমস্ত ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বাণিজ্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে চা (Tea) এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য (Trade with China) ক্ষেত্রে কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার বজায় থাকে।
শিক্ষা বিস্তারে অনুদান: ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ও জ্ঞানবিজ্ঞানের বিকাশের জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দের সংস্থান করা হয়।
খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমন: খ্রিস্টান মিশনারিদের ভারতে এসে ধর্মপ্রচার ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর আইনি অনুমোদন প্রদান করা হয়।
রাজমুকুটের সার্বভৌমত্ব: ভারতে কোম্পানির ভূখণ্ডের ওপর ব্রিটিশ রাজমুকুটের (British Crown) সার্বভৌমত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
স্থানীয় সংস্থাকে কর আরোপের ক্ষমতা: ভারতের স্থানীয় সরকারগুলোকে ব্যক্তিদের ওপর কর আরোপ করা এবং কর না দিলে শাস্তির বিধান রাখার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতে প্রশাসনিক কেন্দ্রীয়করণের চূড়ান্ত মাইলফলক।
ভারতের গভর্নর-জেনারেল: 'বাংলার গভর্নর-জেনারেল' পদটিকে পরিবর্তন করে 'ভারতের গভর্নর-জেনারেল' (Governor-General of India) পদে উন্নীত করা হয় এবং তাঁর হাতে সমস্ত সাময়িক ও বেসামরিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (Lord William Bentinck) হন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল।
ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ ও আইনি পরিবর্তন: বোম্বাই ও মাদ্রাজের গভর্নরদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং ভারতের গভর্নর-জেনারেলকে সমগ্র ব্রিটিশ ভারতের জন্য একচ্ছত্র আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর পূর্বের আইনগুলোকে 'Regulations' এবং এই আইনের অধীনে তৈরি আইনগুলোকে 'Acts' বলা হয়।
বাণিজ্যিক সত্তার সম্পূর্ণ অবসান: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমস্ত বাণিজ্যিক কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এটি একটি বিশুদ্ধ প্রশাসনিক সংস্থায় (Purely Administrative Body) পরিণত হয়।
সিভিল সার্ভিসে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগের প্রস্তাব: সিভিল সার্ভিস নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করা হয় এবং বলা হয় যে ভারতীয়দের কোনো পদে নিয়োগে ধর্ম, বর্ণ বা বংশের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না। তবে কোর্ট অব ডিরেক্টর্সের প্রবল বিরোধিতায় এই বিধানটি তখন বাতিল হয়ে যায়।
১৭৯৩ থেকে ১৮৫৩ সালের মধ্যে পাস হওয়া চার্টার আইন সিরিজের এটিই ছিল শেষ আইন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মাইলফলক।
আইন পরিষদ ও শাসন পরিষদের পৃথকীকরণ: প্রথমবার গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিলের আইন প্রণয়ন (Legislative) ও নির্বাহী (Executive) কাজকে পৃথক করা হয়। আইন প্রণয়নের জন্য ৬ জন নতুন সদস্য (Legislative Councillors) যুক্ত করে 'ইন্ডিয়ান (সেন্ট্রাল) লেজিসলেটিভ কাউন্সিল' গঠন করা হয়, যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আদলে একটি 'মিনি-পার্লামেন্ট' (Mini-Parliament) হিসেবে কাজ শুরু করে।
সিভিল সার্ভিসে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা: সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (Open Competition System) চালু করা হয় এবং কভেনেন্টেড সিভিল সার্ভিস ভারতীয়দের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এই উদ্দেশ্যে ১৮৫৪ সালে লর্ড মেকলে কমিটি (Macaulay Committee on the Indian Civil Service) গঠিত হয়।
কোম্পানির শাসনের অনিশ্চিত মেয়াদ: কোম্পানির শাসন বজায় রাখা হলেও পূর্বের মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ২০ বছর) বেঁধে দেওয়া হয়নি, যা ইঙ্গিত দেয় যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যেকোনো সময় কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটাতে পারে।
স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের সূচনা: কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে প্রথমবার স্থানীয় বা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব (Local Representation) চালু করা হয়। ৬ জন নতুন আইনি সদস্যের মধ্যে ৪ জন মাদ্রাজ, বোম্বাই, বাংলা ও আগ্রার স্থানীয় সরকার দ্বারা মনোনীত হতো।
📌 পদবী পরিবর্তন: গভর্নর অব বেঙ্গল ➔ গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল (প্রথম: লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস)।
📌 বিচার বিভাগ: ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট গঠন (প্রথম প্রধান বিচারপতি: স্যার এলিজা ইম্পে)।
📌 দুর্নীতি প্রতিরোধ: উপঢৌকন ও ব্যক্তিগত ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ।
📌 শাসন পদ্ধতি: দ্বৈত শাসন প্রতিষ্ঠা (Commercial vs Political)।
📌 নিয়ন্ত্রক সংস্থা: বাণিজ্যে 'Court of Directors' ও রাজনীতিতে 'Board of Control'।
📌 ভূখণ্ডের পরিচয়: প্রথমবার 'British Possessions in India' হিসেবে উল্লেখ।
📌 বাণিজ্যিক অধিকার: একচেটিয়া বাণিজ্য বাতিল (চা ও চীন বাণিজ্য ব্যতীত)।
📌 শিক্ষা বাজেট: শিক্ষা বিস্তারে বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ।
📌 ধর্মপ্রচার: খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রবেশের আইনি অনুমোদন।
📌 পদবী পরিবর্তন: গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল ➔ ভারতের গভর্নর-জেনারেল (প্রথম: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক)।
📌 বাণিজ্য বিলোপ: বাণিজ্যিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ, কেবল প্রশাসনিক সংস্থা হিসেবে রূপান্তর।
📌 কেন্দ্রীয়করণ: বোম্বাই ও মাদ্রাজের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা হরণ ও কেন্দ্রীয়করণের চূড়ান্ত রূপ।
📌 আইনসভা গঠন: 'ইন্ডিয়ান (সেন্ট্রাল) লেজিসলেটিভ কাউন্সিল' বা মিনি-পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা।
📌 সিভিল সার্ভিস: মেধাভিত্তিক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা চালু ও মেকলে কমিটি (১৮৫৪) গঠন।
📌 প্রাদেশিক প্রতিনিধিত্ব: আইন পরিষদে মাদ্রাজ, বোম্বাই, বাংলা ও আগ্রার প্রথম স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব।
কোম্পানির দেউলিয়াত্ব ও দুর্নীতি: ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানির কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত ব্যবসার কারণে কোম্পানি ১৭৭০-এর দশকের শুরুতে আর্থিক সংকটে পড়ে এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে ১০ লক্ষ পাউন্ড ঋণ প্রার্থনা করে।
প্রশাসনিক কেন্দ্রীয়করণের প্রয়োজনীয়তা: ভারতের তিনটি মূল কেন্দ্র (বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ)-এর মধ্যে নীতিগত সমন্বয় না থাকায় শাসনকাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল।
প্রশাসনিক কেন্দ্রীয়করণ থেকে শাসনতান্ত্রিক পৃথকীকরণ: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট এবং ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী কাজকে পৃথক করে ভারতীয় আধুনিক পার্লামেন্টারি শাসনব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হয়।
আমলাতন্ত্রের আধুনিকীকরণ: ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট ও মেকলে কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে অনুগ্রহভিত্তিক নিয়োগের বদলে মেধাভিত্তিক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সূচনা ঘটে।
রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বনাম বাণিজ্যিক স্বার্থ: ১৭৮৪ সালের পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্টের দ্বৈত শাসন কাঠামোর ফলে বোর্ড অব কন্ট্রোল ও কোর্ট অব ডিরেক্টর্সের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল।
প্রাদেশিক ক্ষোভ: ১৮৩৩ সালের আইনের মাধ্যমে বোম্বাই ও মাদ্রাজের আইন প্রনয়ন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের নীতি ক্ষুণ্ণ হয়, যা পরবর্তীতে ১৮৬১ সালের কাউন্সিলার অ্যাক্টের মাধ্যমে পুনরায় ফেরত দিতে হয়েছিল।
🔹 ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল হন লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস।
🔹 ১৭৭৪ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্টের অধীনে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এলিজা ইম্পে হন প্রথম প্রধান বিচারপতি।
🔹 ১৭৮১ সালের সংশোধন আইন 'Act of Settlement' নামে পরিচিত।
🔹 পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৭৮৪-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিষয় পরিচালনার জন্য 'Board of Control' তৈরি করে দ্বৈত শাসন চালু করা হয়।
🔹 পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্টে প্রথমবার ভারতীয় ভূখণ্ডকে "British possessions in India" বলা হয়।
🔹 ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্টে শিক্ষা বিস্তারে বছরে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
🔹 ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী চা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যতীত অন্য সকল একচেটিয়া বাণিজ্য বাতিল হয়।
🔹 ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ভারতের প্রথম 'গভর্নর-জেনারেল' হন।
🔹 ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়।
🔹 ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রথম কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ (Indian Legislative Council) গঠিত হয়।
🔹 সিভিল সার্ভিসে উন্মুক্ত পরীক্ষার জন্য ১৮৫৪ সালে লর্ড মেকলে কমিটি (Macaulay Committee) গঠিত হয়।
🔹 ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে প্রথমবার কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে প্রাদেশিক বা স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের সূচনা হয়।
১. ভারতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার প্রণীত প্রথম আইনটি কোনটি?
(A) পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৭৮৪
(B) রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩
(C) চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩
(D) চার্টার অ্যাক্ট ১৮৩৩
উত্তর: (B) রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩
ব্যাখ্যা: ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাসের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবার কোম্পানির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজে হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ শুরু করে।
২. ১৭৭৪ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্টের অধীনে কোথায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? [WBCS Main 2021]
(A) বোম্বাই
(B) মাদ্রাজ
(C) কলকাতা
(D) ঢাকা
উত্তর: (C) কলকাতা
ব্যাখ্যা: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী ১৭৭৪ সালে কলকাতায় ১ জন প্রধান বিচারপতি ও ৩ জন অন্যান্য বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয়।
৩. কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
(A) স্যার উইলিয়াম জোনস
(B) স্যার এলিজা ইম্পে
(C) লর্ড কর্নওয়ালিস
(D) স্যার জন শোর
উত্তর: (B) স্যার এলিজা ইম্পে
ব্যাখ্যা: ১৭৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা সুপ্রিম কোর্টের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে।
৪. পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট কোন সালে পাস হয়েছিল? [WBCS Prelims 2001, 2015]
(A) ১৭৭৩
(B) ১৭৮১
(C) ১৭৮৪
(D) ১৭৯৩
উত্তর: (C) ১৭৮৪
ব্যাখ্যা: তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট ১৭৮৪ সালে পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পেশ করেন।
৫. কোন আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পৃথক করে 'দ্বৈত শাসন' প্রতিষ্ঠা করা হয়?
(A) রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩
(B) পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৭৮৪
(C) চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩
(D) চার্টার অ্যাক্ট ১৮৫৩
উত্তর: (B) পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৭৮৪
ব্যাখ্যা: পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্টে বাণিজ্যের জন্য 'কোর্ট অব ডিরেক্টর্স' এবং রাজনীতির জন্য 'বোর্ড অব কন্ট্রোল' তৈরি করে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়।
৬. কোন্ আইনি বিধানে ভারতীয় শিক্ষার জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল? [WBCS Prelims 2020]
(A) ১৭৭৩ রেগুলেটিং অ্যাক্ট
(B) ১৭৮৪ পিটের ভারত আইন
(C) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (C) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮১৩ সালের চার্টার আইনে প্রথমবার ভারতীয়দের শিক্ষাবিস্তারে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দের আইনি বিধান রাখা হয়।
৭. কোন্ আইনের মাধ্যমে খ্রিস্টান মিশনারিদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল? [WBCS Prelims 2013]
(A) ১৭৯৩ চার্টার অ্যাক্ট
(B) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৭৮৪ পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
উত্তর: (B) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮১৩ সালের চার্টার আইনের মাধ্যমে খ্রিস্টান মিশনারিদের ভারতে এসে ধর্ম ও শিক্ষার প্রচার করার আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়।
৮. ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্টে কোম্পানির কোন কোন বাণিজ্যের একচেটিয়া অধিকার বজায় রাখা হয়েছিল?
(A) রেশম ও সুতি পোশাক
(B) চা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য
(C) আফিম ও মশলা বাণিজ্য
(D) সকল বাণিজ্যাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল
উত্তর: (B) চা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্য
ব্যাখ্যা: ১৮১৩ সালে সাধারণ একচেটিয়া বাণিজ্য বাতিল হলেও চা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে কোম্পানির একচেটিয়া অধিকার বজায় রাখা হয়।
৯. 'বাংলার গভর্নর-জেনারেল' পদটিকে 'ভারতের গভর্নর-জেনারেল' পদে উন্নীত করা হয় কোন আইনের দ্বারা?
(A) পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৭৮৪
(B) চার্টার অ্যাক্ট ১৮১৩
(C) চার্টার অ্যাক্ট ১৮৩৩
(D) চার্টার অ্যাক্ট ১৮৫৩
উত্তর: (C) চার্টার অ্যাক্ট ১৮৩৩
ব্যাখ্যা: ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে 'গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল' পদটিকে 'গভর্নর-জেনারেল অব ইন্ডিয়া' ঘোষণা করা হয়।
১০. ভারতের প্রথম 'গভর্নর-জেনারেল' কে ছিলেন?
(A) লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস
(B) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
(C) লর্ড ক্যানিং
(D) লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর: (B) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা: ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক হন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল।
১১. কোন আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে এটিকে বিশুদ্ধ প্রশাসনিক সংস্থায় রূপান্তরিত করা হয়?
(A) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(B) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৫৮ ভারত শাসন আইন
উত্তর: (B) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে কোম্পানির বাণিজ্যিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ করা হয়।
১২. সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের জন্য খোলা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (Open Competition) চালু করেছিল কোন আইন?
(A) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(B) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৫৮ ভারত শাসন আইন
উত্তর: (C) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
১৩. ভারতীয় সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত লর্ড মেকলে কমিটি (Macaulay Committee) কোন সালে গঠিত হয়েছিল?
(A) ১৮৩৩
(B) ১৮৫৪
(C) ১৮৫৮
(D) ১৮৬১
উত্তর: (B) ১৮৫৪
ব্যাখ্যা: ১৮৫৩ সালের আইনের বিধান বাস্তবায়নে ১৮৫৪ সালে মেকলে কমিটি নিয়োগ করা হয়।
১৪. প্রথমবার গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিলের নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ পৃথক করা হয় কোন আইনে?
(A) ১৭৮৪ পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
(B) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (D) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৫৩ সালের আইনে আইন প্রণয়নের জন্য ৬ জন নতুন লেজিসলেটিভ কাউন্সিলর যুক্ত করে পৃথক কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ তৈরি করা হয়।
১৫. কোন ব্রিটিশ আইনটি ভারতে প্রথম পার্লামেন্টীয় সরকারের রূপরেখা উপস্থাপিত করেছিল? [WBCS Prelims 2023]
(A) ১৭৯৩ চার্টার অ্যাক্ট
(B) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (D) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী তৈরি কেন্দ্রীয় আইন পরিষদটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আদলে একটি 'মিনি-পার্লামেন্ট' হিসেবে কাজ শুরু করেছিল।
১৬. ১৮৫৩ সালের আইনে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে প্রথমবার স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের জন্য কোন ৪টি প্রাদেশিক সরকার সদস্য মনোনয়ন করতো?
(A) বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ ও পাঞ্জাব
(B) বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ ও আগ্রা
(C) বাংলা, বিহার, ওড়িশা ও মাদ্রাজ
(D) বোম্বাই, মাদ্রাজ, সেন্ট্রাল প্রভিন্স ও দিল্লি
উত্তর: (B) বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ ও আগ্রা
ব্যাখ্যা: ১৮৫৩ সালের আইন অনুযায়ী ৬ জন নতুন আইনি সদস্যের ৪ জন বেছে নেওয়া হয়েছিল বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজ ও আগ্রার স্থানীয় সরকার থেকে।
১৭. ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাসের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
(A) লর্ড নর্থ
(B) উইলিয়াম পিট
(C) রবার্ট ওয়ালপোল
(D) লর্ড মেকলে
উত্তর: (A) লর্ড নর্থ
ব্যাখ্যা: লর্ড নর্থের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে গোপন কমিটির সুপারিশে ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয়েছিল।
১৮. ১৭৮১ সালের Amending Act বা 'Act of Settlement' পাসের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
(A) গভর্নর-জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়া
(B) ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটি সংশোধন ও সুপ্রিম কোর্টের সাথে শাসনবিভাগের এক্তিয়ার স্পষ্ট করা
(C) কোম্পানিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা
(D) ভারতে ব্রিটিশ রাজের শাসন সরাসরি চালু করা
উত্তর: (B) ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের ত্রুটি সংশোধন ও সুপ্রিম কোর্টের সাথে শাসনবিভাগের এক্তিয়ার স্পষ্ট করা
ব্যাখ্যা: গভর্নর-জেনারেল ইন কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারগত সংঘাত দূর করতে ১৭৮১ সালে এই সংশোধন আইনটি আনা হয়।
১৯. লর্ড কর্নওয়ালিসকে প্রধান সেনাপতি ও কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতা প্রদান করা হয় কোন আইনের মাধ্যমে?
(A) Act of 1786
(B) Charter Act of 1793
(C) Regulating Act of 1773
(D) Pitt's India Act of 1784
উত্তর: (A) Act of 1786
ব্যাখ্যা: ১৭৮৬ সালের বিশেষ আইনের মাধ্যমে কর্নওয়ালিসকে কাউন্সিলের মতামত ওভাররাইড করার ও প্রধান সেনাপতি হওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
২০. বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি ও কর্মীদের বেতন ভারতীয় রাজস্ব থেকে দেওয়া হবে — এটি প্রথম কোন চার্টার আইনে নির্ধারিত হয়?
(A) ১৭৯৩ চার্টার অ্যাক্ট
(B) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (A) ১৭৯৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৭৯৩ সালের চার্টার আইনে এই নিয়ম করা হয়, যা পরবর্তীতে দীর্ঘদিন বলবৎ ছিল।
২১. বোম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল কোন আইনে?
(A) ১৭৭৩ রেগুলেটিং অ্যাক্ট
(B) ১৭৮৪ পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
(C) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (C) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৩৩ সালের আইনের মাধ্যমে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল গভর্নর-জেনারেল ইন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
২২. ১৮৩৫ সালে সরকারি ভাষা হিসেবে ফারসি (Persian)-এর জায়গায় ইংরেজি ভাষা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত কোন চার্টার অ্যাক্টের প্রশাসনিক ভাবধারার ফসল? [WBCS Prelims 2015]
(A) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(B) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
(C) ১৮৫৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৭৯৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (B) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৮৩৩ সালের চার্টার আইনের পর লর্ড বেন্টিঙ্ক ও মেকলের শিক্ষার নীতি অনুযায়ী ১৮৩৫ সালে প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ফারসির স্থান নেয় ইংরেজি।
২৩. ভারতে কোম্পানির অধীনস্থ ভূখণ্ডকে প্রথমবার সরকারিভাবে "British Possessions in India" বলা হয় কোন আইনে?
(A) ১৭৭৩ রেগুলেটিং অ্যাক্ট
(B) ১৭৮৪ পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
(C) ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট
(D) ১৮৩৩ চার্টার অ্যাক্ট
উত্তর: (B) ১৭৮৪ পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট
ব্যাখ্যা: ১৭৮৪ সালের পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্টে প্রথমবার কোম্পানির ভূখণ্ডকে 'ব্রিটিশ সম্পত্তি' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
২৪. ১৮৫৩ সালের চার্টার আইনে গঠিত 'ইন্ডিয়ান লেজিসলেটিভ কাউন্সিল'-এ মোট কতজন নতুন আইনি সদস্য (Legislative Councillors) যুক্ত করা হয়েছিল?
(A) ৪ জন
(B) ৬ জন
(C) ৮ জন
(D) ১২ জন
উত্তর: (B) ৬ জন
ব্যাখ্যা: গভর্নর-জেনারেলের পরিষদে আইন প্রণয়নের কাজ সম্পাদনে নতুন ৬ জন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
২৫. ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে বোর্ড অব কন্ট্রোল ও কোর্ট অব ডিরেক্টর্স বিলুপ্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত কোন আইনটি কোম্পানির সর্বশেষ চার্টার আইন ছিল?
(A) ১৮১৩
(B) ১৮৩৩
(C) ১৮৫৩
(D) ১৭৯৩
উত্তর: (C) ১৮৫৩
ব্যাখ্যা: ১৭৯৩ থেকে শুরু হওয়া ২০ বছর পর পর পাস হওয়া চার্টার আইন সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ ছিল ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট।
প্রশ্ন ১: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো এবং এর প্রশাসনিক দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করো। (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): রেগুলেটিং অ্যাক্ট ১৭৭৩ ছিল ভারতে কোম্পানি শাসনের ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রথম আইনি নিয়ন্ত্রণ।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (৬০ শব্দ): ১. 'গভর্নর অব বেঙ্গল'-কে 'গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল' (ওয়ারেন হেস্টিংস) করা এবং ৪ সদস্যের কাউন্সিল গঠন। ২. বোম্বাই ও মাদ্রাজকে বেঙ্গলের অধীনস্থ করা। ৩. ১৭৭৪-এ কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট গঠন। ৪. ব্যক্তিগত ব্যবসা ও উপহার গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ।
প্রশাসনিক দুর্বলতা (৫০ শব্দ): ১. গভর্নর-জেনারেলকে ভিটো ক্ষমতা না দেওয়ায় কাউন্সিলের সাথে সংঘাত তৈরি হওয়া। ২. সুপ্রিম কোর্ট ও গভর্নর-জেনারেলের কাউন্সিলের বিচারিক এখতিয়ার অস্পষ্ট থাকা।
উপসংহার (২০ শব্দ): দুর্বলতা সত্ত্বেও এটি ভারতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সূচনা করে।
প্রশ্ন ২: ১৭৮৪ সালের পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট কীভাবে কোম্পানি ও ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করেছিল? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ১৭৭৩-এর আইনের ত্রুটি দূর করতে ১৭৮৪ সালে পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস হয়।
দ্বৈত শাসন কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য (৯০ শব্দ): ১. কোর্ট অব ডিরেক্টর্স: কেবল বাণিজ্যিক কাজকর্মের দায়িত্বে থাকে। ২. বোর্ড অব কন্ট্রোল: রাজনৈতিক, সামরিক ও রাজস্ব শাসনের প্রত্যক্ষ তদারকিতে ৬ সদস্যের এই ব্রিটিশ সরকারি সংস্থা গঠিত হয়। ৩. প্রথমবার কোম্পানির এলাকাকে "British Possessions in India" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
উপসংহার (২০ শব্দ): এটি বাণিজ্যাধিকার অক্ষুণ্ন রেখে রাজনীতির চূড়ান্ত চাবিকাঠি ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দেয়।
প্রশ্ন ৩: ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিতে কী রূপান্তর এনেছিল? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট কোম্পানি শাসনের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনে।
প্রধান প্রভাবসমূহ (৯০ শব্দ): ১. অর্থনৈতিক: একচেটিয়া বাণিজ্য বাতিল করে সকল ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতীয় বাজার খুলে দেওয়া হয় (চা ও চীন বাণিজ্য ছাড়া)। ২. শিক্ষামূলক: ভারতীয়দের আধুনিক শিক্ষার প্রসারে বছরে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩. ধর্মীয়/সামাজিক: খ্রিস্টান মিশনারিদের ধর্ম ও পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের আইনি সম্মতি দেওয়া হয়।
উপসংহার (২০ শব্দ): এটি মুক্ত বাণিজ্য নীতি ও পাশ্চাত্য ভাবধারার বিকাশে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৪: ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্টকে "ব্রিটিশ ভারতে প্রশাসনিক কেন্দ্রীয়করণের চূড়ান্ত ধাপ" বলা হয় কেন? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ১৮৩৩ সালের চার্টার আইন ছিল ভারতের শাসনতন্ত্রে এক কেন্দ্রীয়করণকারী মাইলফলক।
কেন্দ্রীয়করণের উপাদানসমূহ (৯০ শব্দ): ১. বাংলার গভর্নর-জেনারেলকে সমগ্র 'ভারতের গভর্নর-জেনারেল' (লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক) পদে উন্নীত করা হয়। ২. বোম্বাই ও মাদ্রাজের স্বাধীন আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পুরোপুরি রদ করা হয়। ৩. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমস্ত বাণিজ্যিক সত্তা বিলুপ্ত করে একে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়।
উপসংহার (২০ শব্দ): এই আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই ভারতে একক আইনি ও প্রশাসনিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৫: ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট কীভাবে ভারতে আধুনিক পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার বীজ বপন করেছিল? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট ছিল একটি দূরদর্শী সংবিধানিক আইন।
পার্লামেন্টারি কাঠামোর উপাদান (৯০ শব্দ): ১. গভর্নর-জেনারেলের পরিষদের আইন প্রনয়ন ও শাসন সংক্রান্ত দায়িত্ব পৃথক করা হয়। ২. ৬ জন নতুন লেজিসলেটিভ কাউন্সিলর নিয়ে 'ইন্ডিয়ান (সেন্ট্রাল) লেজিসলেটিভ কাউন্সিল' গঠিত হয়। ৩. এই কাউন্সিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে 'মিনি-পার্লামেন্ট' হিসেবে কাজ শুরু করে।
উপসংহার (২০ শব্দ): এটিই পরবর্তীতে আধুনিক স্বাধীন ভারতের সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করে।
প্রশ্ন ৬: মেকলে কমিটি (১৮৫৪)-র পটভূমি এবং ভারতের আমলাতন্ত্রের গঠনে এর অবদান পর্যালোচনা করো। (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ১৮৫৩ সালের চার্টার অ্যাক্টের সিভিল সার্ভিস সংস্কার বাস্তবায়নে ১৮৫৪ সালে মেকলে কমিটি গঠিত হয়।
অবদান ও গুরুত্ব (৯০ শব্দ): ১. মেধাভিত্তিক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (Open Competition System) সুপারিশ যা কভেনেন্টেড সিভিল সার্ভিসকে উন্মুক্ত করে। ২. রাজকীয় বা ব্যক্তিগত পছন্দভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। ৩. উচ্চ প্রশাসনিক পদে ভারতীয়দের অংশগ্রহণের তাত্ত্বিক সুযোগ তৈরি করে।
উপসংহার (২০ শব্দ): এটি আধুনিক পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের (ICS) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
প্রশ্ন ৭: ১৭৭৩ থেকে ১৮৫৩ সালের চার্টার আইনগুলিতে গভর্নর-জেনারেল পদের বিবর্তন কীভাবে ঘটেছিল? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): গভর্নর-জেনারেল পদের ক্ষমতা ও এখতিয়ার ধাপে ধাপে বিস্তৃত হয়েছিল।
ক্ষমতার বিবর্তন (৯০ শব্দ): ১. ১৭৭৩: 'গভর্নর অব বেঙ্গল' ➔ 'গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল' (ওয়ারেন হেস্টিংস)। ২. ১৭৮৬: বিশেষ ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাতিলের (Override) ক্ষমতা লাভ। ৩. ১৮৩৩: 'গভর্নর-জেনারেল অব বেঙ্গল' ➔ 'ভারতের গভর্নর-জেনারেল' (উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক)। ৪. ১৮৫৩: নির্বাহী কাজ থেকে আইন প্রণয়ন পরিষদকে পৃথকিকরণ।
উপসংহার (২০ শব্দ): এই পদটিই পরবর্তীতে ১৮৫৮ সালে 'ভাইসরয়' পদে রূপান্তরিত হয়।
প্রশ্ন ৮: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক অধিকার বাতিলের বিভিন্ন ধাপগুলি আলোচনা করো। (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার ধীরে ধীরে বিলুপ্ত করা হয়েছিল।
পর্যায়ক্রমিক বিলোপ (৯০ শব্দ): ১. ১৬০০-১৭৯৩: রানী এলিজাবেথের সনদ থেকে শুরু করে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখা। ২. ১৮১৩ চার্টার অ্যাক্ট: চা ও চীন বাণিজ্য ছাড়া সাধারণ একচেটিয়া বাণিজ্যিক আধিপত্য রদ করা হয়। ৩. ১৮ ৩৩ চার্টার অ্যাক্ট: চা ও চীন বাণিজ্যের আধিপত্যও কেড়ে নিয়ে সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্পূর্ণ অবসান ঘটানো হয়।
উপসংহার (২০ শব্দ): এর ফলে কোম্পানি বাণিজ্য ছেড়ে কেবল ব্রিটিশ রাজমুকুটের ট্রাস্টি হিসেবে শাসন পরিচালনা শুরু করে।
প্রশ্ন ৯: ১৮৫৩ সালের চার্টার আইনে প্রথমবার স্থানীয় বা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের (Local Representation) তাৎপর্য কী ছিল? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ১৮৫৩ সালের চার্টার আইনে ভারতে কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের নীতি স্বীকৃত হয়।
প্রশাসনিক তাৎপর্য (৯০ শব্দ): ১. কেন্দ্রীয় আইন পরিষদে ৬ জন নতুন আইনি সদস্যের মধ্যে ৪ জন মাদ্রাজ, বোম্বাই, বাংলা ও আগ্রার প্রাদেশিক সরকার মনোনীত করতো। ২. পূর্বে কেবল কেন্দ্রীয় স্তরের কর্মকর্তারা আইন তৈরি করায় যে আঞ্চলিক বাস্তবতার অভাব ছিল, তা কিছুটা দূর হয়।
উপসংহার (২০ শব্দ): এটি ভারতীয়দের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পরবর্তী ধাপের (১৮৬১ সালের আইন) ভিত্তি গড়ে তোলে।
প্রশ্ন ১০: কোম্পানি শাসনের অধীনস্থ আইনসমূহ (১৭৭৩–১৮৫৩) কীভাবে স্বাধীন ভারতের সংবিধানে প্রভাব ফেলেছিল? (১৫০ শব্দ)
মডেল অ্যানসার স্ট্রাকচার:
ভূমিকা (২০ শব্দ): ব্রিটিশ আমলের আইনসমূহ ভারতীয় শাসনতন্ত্র গঠনের প্রাথমিক কাঠামো সরবরাহ করেছিল।
সাংবিধানিক ভাবধারায় প্রভাব (৯০ শব্দ): ১. কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও আইনসভা: ১৮৫৩ সালের আইনের আইন পরিষদ এবং ক্ষমতার বিভাগ ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার রূপরেখা তৈরি করে। ২. স্বাধীন বিচারবিভাগ: ১৭৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত তৈরি করে। ৩. মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র: ১৮৫৩ সালের আমলাতান্ত্রিক উন্মুক্ত পরীক্ষা নীতি বর্তমানের UPSC কাঠামোর মূল প্রেরণা।
উপসংহার (২০ শব্দ): এই আইনি বিবর্তনই পরবর্তীতে ১৯ ৩৫ সালের ভারত শাসন আইন এবং পরিশেষে ১৯ ৫০ সালের সংবিধানে রূপ নেয়।